মোহনা আমার ঘাড়ে মুখ দিয়ে আমার রক্ত চুষে নিচ্ছে

বাসর রাতে মোহনা কে স্পর্শ করে আমার ভিতরটা আতংকে শুকিয়ে গেল। এত্ত ঠান্ডা মানুষের শরীর হয়? জানিনা আমি। কিন্তু মোহনা আমাকে টেনে নিল। তারপর আমার আর কিছু মনে নেই। সকালে উঠে দেখি মোহনা আমার পাশে নেই। মেয়েটা বড়ই অদ্ভুত। দেখি রান্না করছে।

ওর রান্না গুলোউ অদ্ভুত। খেতে কেমন একটা অদ্ভুত টেস্ট। উফ ভাল লাগছে না। আমি বেশি একটা খেতে পারলাম না। শরীরটাও আজ আর ভাল লাগছে না । কি যে হল। আমি আবার শুলাম। ঘুমের মধ্যে অদ্ভুত একটা স্বপ্ন দেখলাম। মোহনা আমার ঘাড়ে মুখ দিয়ে আমার রক্ত চুষে নিচ্ছে। আর আমি কাতরাচ্ছি মোহনা ছাড়ছেনা।

ধাক্কিয়ে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলাম সরাতে পারছিনা। মোহনার শরীরের ওজন যেনো কয়েক টন। ও আমার শরীর থেকে উঠল। ওর দাত রক্তে লেপ্টে আছে। এই দৃশ্য দেখে আমি চিৎকার করে উঠলাম। ওহ আমি স্বপ্ন দেখছিলাম? আমার সারা শরীর ঘেমে একাকার হয়ে আছে। অইঘর থেকে মোহনা ছুটে এল।
কী হল তোমার? এভাবে চেচাচ্ছ কেন?

মোহনার দিকে তাকালাম। কালো রঙের একটা শারি পরেছে। কালো রঙটা ওকে একটু বেশি ই মানায়। মোহনা অতিরিক্ত বেশি সুন্দরী। ও এত্ত সুন্দর যে যেকোনো ছেলে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়বে। আমিও পড়েছি তাই ত বিয়ে করে এনেছি। ভাবছি আজ সারাদিন ঘুরব। বিভিন্ন আত্মীয়দের বাসায় যাব। সবাইকে ত আমার বউ দেখাতে হবে তাইনা? আসলে বিয়েটা হঠাৎ ই হয়।

তাই কোনো আত্মীয়কে দাওয়াত করা হয়নি। আমি মোহনার মত সুন্দরী মেয়ে কে হাতছাড়া করতে চাচ্ছিলাম না। তাই এত্ত তাড়াহুড়ো করে বিয়ে। সূর্যের আলোয় ও যে কারো এলার্জি থাকতে পারে তা আমার জানা ছিল না।হয়ত সূর্যের আলোয় যায়না জন্যই এত সুন্দরী।

সন্ধার পর আমি আর মোহনা বের হলাম। একটা রিক্সা নিলাম। কিন্তু রিক্সাওয়ালা ভাইয়া জোয়ান হওয়া সত্বেও কিছুতেই রিক্সাটা টানতে পারতেছিল না ভাবলাম উনি হয়ত অসুস্থ। আমি মোহনাকে বললাম অন্য একটা রিক্সা নেই। মোহনা বলল নতুন বউকে রিক্সায় ঘুরাবা আচ্ছা ট্যাক্সি নেই?

আমরা একটা ট্যক্সি ভারা করলাম। রাতের নিস্তব্দতা ভেদ করে আমাদের ট্যাক্সি এগিয়ে আমি নিরবতা ভেঙে মোহনাকে জিজ্ঞেস করলাম আমি গালি দিয়ে বসলাম। কিন্তু গালি দিয়েই বা লাভ কি? আমার বউ যেখানে নিজেই নিজেকে এমন মন্তব্য করল আমি সেখানে ট্যাক্সি ড্রাইভার কে কি বলব।

দেখুন ভাই গালি দিবেন না। আমার ট্যাক্সি তে বসে আপনি আমায় গালি দেন? আপনার এত সাহস? সাথে * নিয়ে ঘুরেন আবার ইংলিশ এ গালি ঝারেন?নামেন আমার গাড়ি থেকে আর এতই যখন ঠান্ডা লাগে আমারে দিয়ে যান। আমি গরম লাগলে শরীর ঠান্ডা করতে ব্যবহার করব।

কলার ধরে দিলাম থাপ্পড় ততক্ষণে গাড়ি থেকে নেমে গেছি। ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলাম ড্রাইভার টাকে। তারপর মোহনার হাত ধরে হাটা দিলাম। তুমি নিজেকে হট বল্লা কেন? কি বল এইসব? এসব কি কেও বলে? বলবানা আর কখনো। তুমি আমার বউ। তোমার মান আছে সম্মান আছে। এসব বলে নিজের মানসম্মান নষ্ট কর না।

আর একটু ঠান্ডা না হয় বলছি ই ত কি হয়েছে? আর বলব না। সরি বউটা আমার কথা বলার সময় হাত নাড়ানোর অভ্যাস আছে। হাত নাড়াতে গিয়ে কখন যে মোহনার হাত ছেড়ে দিয়েছি জানিনা। পাশে তাকিয়ে দেখি মোহনা নেই। আমি মোহনাকে খুজা শুরু করলাম কিছুক্ষণ পর মনে হল ল্যাম্পপোস্ট এর আলোয় একটা ছায়া বিধঘুটে কালো ছায়া।

সেটা যেন আমার দিকেই এগিয়ে আসছে। অনেক্ষণ পর বুঝতে পারলেম অইটা আসলে মোহনা ছিল।
কই গেছিলে যে জোড়ে হাটো পিছিয়ে পড়ছিলাম। চল বাসায় যাই হাটতে হাটতে বাসায় আসার সময় আমার বার বার মনে হচ্ছিল কালো ছায়াটা যেন আমার পিছনে আসছে।

পরদিন সকালে উঠে খবরে দেখলাম হাইওয়ের পাশে সেই ট্যাক্সিড্রাইভার টার লাশ পাওয়া গেছে যে ট্যাক্সিতে আমরা ছিলাম। কীভাবে খুন করা হয়েছে জানা যায়নি । গলার কাছে দুটো ছিদ্র পাওয়া গেছে আর শরীর রক্তশূন্য ফ্যাকাসে। দেখেই ভয় পেয়ে গেলাম চোখ গুলো এখনো খোলা হাতের আঙুল গুলো হাইওয়ের দিকে তাক করানো।

আমি মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলাম যে পুলিশ আসবে আমায় এরেস্ট করে নিয়ে যাবে এইরকম কিছু। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করার পর ও পুলিশ এলনা আর আমি আস্তে আস্তে ব্যাপারটা ভুলে গেলাম।এরমধ্যে আমি অফিস যাওয়া শুরু করলাম। রেগুলার অফিস করতাম। আমার প্রচুর ঘুম হত। মোহনাকে খুব একটা সময় দেয়া হতনা। সকাল ৮ টায় ঘুম থেকে উঠে খেয়ে অফিস চলে যেতাম। আসতে আসতে রাত আটটা বাজত।

ক্লান্ত পরিস্রান্ত হয়ে যখন বাড়ি ফিরতাম ফ্রেস হয়ে খেয়ে ঘুমিয়ে যেতাম । মোট কথা মোহনাকে কোনোভাবেই সময় দেয়া হচ্ছিল না।শুক্রবার করে ওকে বিকালে হাটতে নিয়ে যেতে চাইতাম ও রাজি হতনা। আর অইদিনের বিভৎস রাতের পর আমার আর রাতে বের হওয়ার সাহস ছিল না।

একদিন হঠাৎ আমি অফিসে পরে গেলামম। অনেকটা অজ্ঞান হওয়ার মত। আমাকে হসপিটাল এ এডমিট করা হল। মোহনা সন্ধার পরে এল। ডাক্তাররা বিভিন্ন টেস্ট করে জানালো আমার তেমন কোনো রোগ নেই কিন্তু শরীর এর রক্ত অস্বাভাবিক ভাবে কমে গেছে। রক্তশূন্যতা হিমগ্লোবিন এর অভাব দেখা দিয়েছে। ইভেন আমায় কয়েক ব্যাগ রক্ত নিতেও হল।

মোটামুটি সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলাম। মোহনা সারাদিন একা একা থাকছে। আমার বউ আমি সময় দিতে পারছিনা জন্য আমার নিজের উপর নিজেরই রাগ লাগছিল। তাই মোহনার জন্য একটা আয়া রেখে দিলাম। গ্রামে আমার বৃদ্ধ মা আর ছোট বোন থাকত। ওদের ও নিয়ে এলাম। মা বিছানায় পরেছেন। কিন্তু উনাকে নিয়ে আসা ছাড়া মোহনার একাকিত্ব দূর করার আমার কাছে আর কোনো উপায় ছিল না। তাছাড়া মা এর দেখাশোনা ছোট বোন ই করবে। আর মোহনার কথা বলার মানুষ ও পাওয়া গেল।

কালো বিড়াল ও যে কারো চাওয়া হতে পারে আমার জানা ছিল না প্লিজ প্লিজ প্লিজ একটা কিউট চেয়ে কালো বিড়ালের বাচ্চা এনে দিও অনেক খুজে আমি একটা কালো বিড়ালের বাচ্চা এনে দিলাম। আমার মা আদিম যুগের মানুষ ছিলেন তার এসব পছন্দ হল না। বিছানা থেকেও উঠতে না পারলেও তিনি বিড়ালছানা টাকে দূর করার জন্য উঠে পরে লাগলেন। আমার বোনের নাম টুম্পা। ক্লাস সেভেন এ পড়ে

সে ই আমার মা এর দেখাশোনা করে মোহনার জন্য মা আর টুম্পাকে এনে কোনো লাভ ই হয়নি। এখনো মোহনা একা ই থাকছে সেদিন অফিসের পর বাসায় এসে শুনি কালো বিড়ালটা মা এর পা এ কামড়ে দিয়েছে। মা চিৎকার করে কান্নাকাটি করে বলছে বিড়ালটা আমার সব রক্ত শুষে খেল রে ওরে আমার আকাশরে।

ঢাকা সহরে এরকম বিলাপ আগে কখনো কেও শুনেছে কিনা জানিনা। টুম্পা এসে বলল বিড়ালটা নাকি মা এর পা অনেক্ষণ কামড় দিয়ে ছিল। আমি পা দেখলাম দুইটা দাগ অখানে। একদম পা এর শিরার মধ্যে। আমি ভাবলাম কো ইন্সিডেন্ট। মা কে ইঞ্জেকশন দেয়ালাম। মোহনা তবু বিড়ালটাকে ছাড়েনি।
চলবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *